| বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ নির্বাচন, জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব: ড. ইউনূস | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-08-2025 ইং
  • 4411644 বার পঠিত
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ নির্বাচন, জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব: ড. ইউনূস | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ড. ইউনূস

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি: ড. ইউনূস বললেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই হবে নির্বাচন

ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তার সরকার কঠোর পরিশ্রম করছে। এর মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষমতার প্রকৃত মালিক—জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


সম্মানসূচক ডক্টরেট গ্রহণ ও ভাষণ

বুধবার (১৩ আগস্ট) মালয়েশিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UKM) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করে তার ভাষণে এসব কথা বলেন প্রফেসর ইউনূস। কুয়ালালামপুরের ইউকেএম অডিটরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও নেগেরি সেমবিলান রাজ্যের সুলতান তুংকু মুহরিজ ইবনি আলমারহুম তুংকু মুনাওয়িরের কাছ থেকে তিনি এই সনদ গ্রহণ করেন। সামাজিক ব্যবসা প্রসারে অনন্য অবদানের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “গত বছর বাংলাদেশের অনেক তরুণ সাহসিকতার সঙ্গে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। শত শত ছাত্র-যুবক একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে।” তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়তে তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি—যেখানে শাসনব্যবস্থা হবে ন্যায়সঙ্গত, অর্থনীতি হবে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রত্যেকে সমান সুযোগ পাবে।”


সংস্কার ও অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব

ড. ইউনূস তার ভাষণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে অর্থনীতির বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, যার মধ্যে রয়েছে উদ্যোক্তাদের সহায়তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। তিনি আরও বলেন, “আমাদের যা দরকার, তা হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি—যেখানে সম্পদ ন্যায্যভাবে ভাগ হবে এবং প্রত্যেক মানুষ মর্যাদা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁচার সুযোগ পাবে।”

নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ তার কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “মানুষ প্রতিভা বা স্বপ্নের অভাবে দরিদ্র নয়, তারা দরিদ্র কারণ ব্যবস্থা তাদের ন্যায্য সুযোগ দেয়নি। আমাদের আর্থিক ব্যবস্থা ধনীদের সেবা করার জন্য গড়ে উঠেছে, গরিবদের জন্য নয়।” এই উপলব্ধিই তাকে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করে।


মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের সম্পর্ক

ড. ইউনূস বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে মালয়েশিয়া আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থেকেছে।” তিনি মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আব্দুল কাদির এবং ইউকেএম ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সুফিয়ান জুসোহ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: মালয়েশিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UKM) ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency